চীনের পরিষেবা খাতের কার্যক্রম ছয় মাসের মধ্যে সবচেয়ে ধীরগতিতে বেড়েছে গত ডিসেম্বরে। গতকাল প্রকাশিত এক বেসরকারি জরিপ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। পরিষেবা খাতের প্রবৃদ্ধি পতনের কারণ হিসেবে নতুন ব্যবসা কমে আসা এবং বিদেশী চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। খবর রয়টার্স।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল সংকলিত রেটিংডগ চায়না জেনারেল সার্ভিসেস পিএমআই সূচক ডিসেম্বরে সামান্য কমে ৫২-এ নেমে আসে, যা আগের মাসে ছিল ৫২ দশমিক ১। এটি গত জুনের পর সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান।
চীনে নতুন ব্যবসা ছয় মাসের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতিতে বেড়েছে ডিসেম্বরে। রফতানিসংক্রান্ত ব্যবসা আগের মাসে বাড়লেও ডিসেম্বরে আবার সংকুচিত হয়েছে। জরিপে বলা হয়েছে, এর প্রধান কারণ ছিল দেশটিতে পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়া।
তবে ব্যবসায়িক আস্থার উন্নতি হয়েছে। আস্থাসংক্রান্ত উপসূচক নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। এর পেছনে রয়েছে বাজার পরিস্থিতি ভালো হওয়ার পূর্বাভাস এবং ২০২৬ সালে কোম্পানিগুলোর ব্যবসা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা।
রেটিংডগের প্রতিষ্ঠাতা ইয়াও ইউ বলেন, ‘মাঝারি প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২০২৫ সাল শেষ করেছে চীনের পরিষেবা খাত। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে কোম্পানিগুলো আশাবাদী।’
তিনি আরো জানান, কর্মসংস্থান কমে যাওয়া ও বহির্বিশ্বে চাহিদায় অস্থিরতা এখনো চীনের পরিষেবা খাতের প্রধান সীমাবদ্ধতা।
দীর্ঘদিন ধরে চলমান আবাসন খাতের মন্দা ও মূল্যসংকোচনজনিত চাপসহ বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার কারণে চীনের অর্থনীতি গতি ফেরাতে হিমশিম খাচ্ছে। তবুও দেশটি প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পথে রয়েছে।
অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা ও চীনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে চলমান মূল্যযুদ্ধ নিয়ন্ত্রণে প্রচেষ্টা জোরদার করেছে দেশটির সরকার। এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ক্রমবর্ধমান মূল্যসংকোচনের চাপ মোকাবেলা করা।
গত মাসে কমিউনিস্ট পার্টির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে চীনা নেতারা ঘোষণা দেন, আগামী বছরও অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর মতো রাজস্বনীতি বজায় রাখা হবে। এর লক্ষ্য হবে ভোগ ও বিনিয়োগ উভয়কেই গতিশীল রেখে উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা।
জরিপে আরো দেখা গেছে, কোম্পানিগুলো টানা পঞ্চম মাসের মতো কর্মী সংখ্যা কমিয়েছে। পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন উভয় ধরনের কর্মীই ছাঁটাই করা হয়েছে, ফলে কিছু ক্ষেত্রে কর্মজট তৈরি হয়েছে।
ডিসেম্বরে চীনা কোম্পানিগুলোর ইনপুট ব্যয় টানা দশম মাসের মতো বেড়েছে। এর কারণ কাঁচামাল ও শ্রম ব্যয়ের বৃদ্ধি। তবে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো বিক্রয়মূল্য কমিয়েছে। বাজারে মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ায় এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
এদিকে উৎপাদন ও পরিষেবা দুই খাতের সম্মিলিত সূচক কম্পোজিট আউটপুট ইনডেক্স ডিসেম্বরে দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৩, যা নভেম্বরে ছিল ৫১ দশমিক ২।